লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
সারাদেশের ন্যায় বেতন-ভাতাহীন ভোলার লালমোহন উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো। এ উপজেলায় এনটিআরসি ও ইনকোডভুক্ত ১১৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে নামে-বেনামে রয়েছে আরও ১৮১টি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্য করার লক্ষ্যে নামে-বেনামের এসব প্রতিষ্ঠানগুলো সৃষ্টি করেছেন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মৌলভী। যিনি একটি দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মৌলভী।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব মাদ্রাসা জাতীয়করণের আশ^াসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম মৌলভী। শুধু তাই নয়, জাতীয়করণের আন্দোলনের নামেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একই অভিযোগ রয়েছে, ইব্রাহিম খলিল নামে আরেক সুপারের প্রতি। যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের দোসর থাকলেও বর্তমানে জামায়াতে যোগ দিয়ে অপকর্ম ঢাকার চেষ্টায় রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে হঠাৎই গা ঢাকা দেন নুরুল ইসলাম মৌলভী। তবে বর্তমানে যখনই পর্যায়ক্রমে ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো জাতীয়করণের সংবাদ পেয়েছেন, তাই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে আবারও পূর্বের রূপে ফিরেছেন এবং শিক্ষা অফিস চষে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, সর্বনিন্ম ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক/দেড় লক্ষ টাকা করে নুরুল ইসলাম মৌলভীকে দিয়ে নিয়োগ নিয়েছিলেন তারা। তবে প্রথমে এক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেখালেও পরে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেখানো হতো। উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র নুরুল ইসলাম মৌলভীর কাছেই থাকতো।
শিক্ষক নিয়োগ দেখাতে সভাপতি/প্রধান শিক্ষক কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষা অফিসারের সিল ও স্বাক্ষর দিতেন নুরুল ইসলাম মৌলভী নিজেই। এভাবে নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তৈরি করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন নুরুল ইসলাম মৌলভী। বর্তমানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মনে।
নিয়োগ বাণিজ্যসহ অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে নুরুল ইসলাম মৌলভীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তা রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে কল করতে গেলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এদিকে নুরুল ইসলাম মৌলভীর এমন কর্মকাণ্ড তদন্তপূর্বক তাকে আইনের আওতায় দাবি জানিয়েছেন উপজেলার স্বতন্ত্র ইবতেদায় মাদ্রাসা শিক্ষকসহ স্থানীয় জনসাধারণ।
মন্তব্য করুন